ssএকটি ছেলে আর একটি মেয়ে, কোন একসময় তারা দুজন দুজনকে অনেক বেশী ভালবাসতো, প্রথম দিকে সয়ং সৃষ্টিকর্তাও তাদের ভালবাসাকে মেনেনিয়েছিল, কারন মেয়েটির যদি কোন অসুখ হত তাহলে সৃষ্টিকর্তা ছেলেটিকেও ঔ একই অসুখ দিতো। দু একটি ‍অসুখ ছাড়া তাদের প্রায় সকল অসুখ ও সমস্যা একই হতো। মেয়েটি ছেলেটিকে জামা-কাপড় থেকে শুরু করে সব দিয়েছে, লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেছে ছেলেটির পেছনে, ছেলেটি ভাল থাকবে বলে ছেলেটিকে ভালবাসে বলে, কারন ছেলেটি ছিল অনেক গরিব ও বেকার। ছেলেটি যখন আস্তে আস্তে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শুরু করলো ঠিক তখনই মেয়েটি অন্য জায়গায় অন্য ছেলেকে বিয়ে করে ফেল্ল। বিয়ের ছয় মাস পর মেয়েটি তার স্বামীকে নিয়ে শপিং করতে মার্কেটে গেলো সেখানে ছেলেটির সাথে মেয়েটির দেখা হলো। মেয়েটি ছেলেটিকে দেখেই বল্ল (হাই! হাউ আর ইউ? হি ইজ মাই হাজব্যান্ড! ইয়ং স্টার, আই এম ভেরী প্রাউড অফ মাই হাজব্যান্ড) এর পর মেয়েটি তার স্বামী কে বল্ল- তোমাকে বলেছিলাম না একটি ছেলের কথা আমার বন্ধু হয় অনেক গরিব! টাকার জন্য পড়ালেখা করতে পারতোনা ভাল জামা-কাপড় কিনতে পারতোনা! আমারা সবাই ওকে সাহায্য করতাম ওর বই, জামা-কাপড় কিনে দিতাম এই সেই আমার বন্ধু ”সূর্য”কথা গুলো একদমেই বলে ফেল্ল মেয়েটি! তার পর বাই বলে চলে গেলো। ছেলেটি কোন কথাই বল্ল না। একরকম বোবা হয়েই দাঁড়িয়ে রইল। এর কিছু দিন পর কোন এক ঝড়ের গভীর রাতে মেয়েটি ছেলেটিকে ফোন করলো………… হ্যালো সূর্য বলছো? বলছি! আমি সঞ্চিতা! কেমন আছ? ভাল, আমার স্বামীকে কেমন দেখলে? খুই সুন্দর তাই না? অবশ্য তোমার চেয়েও বেশী সুন্দর, তোমার সাথে আকাশ-পাতাল ব্যবধান তাইনা? তুমিকি এসব কথা বলার জন্য আমাকে ফোন করছ? না, তোমার ব্যার্থতাকে স্বরন করিয়ে দিতে। ব্যার্থতা-সফলতা যাই বল সব বাধ দিয়ে শুধু একটা কথা বল তোমার সাথে আমার এতকিছু এত ভালবাসা এত সহজেই ভুলে গেলে? হ্যাঁ ভুলে গেলাম, কারন তোমার মত একটা অকর্মার সাথে থেকে আমি আমার ভবিষ্যৎ নষ্ট করবো নাকি? তোমার সাথে আমি সম্পর্ক রেখেছি শুধু আমার বেকার সময়টুকু পার করার জন্য। তাহলে তোমার গর্ভে যে আমার সন্তান? সেটা এখন আমার কাছে দুঃস্বপ্ন! কারন ওটা ছিল তোমার নষ্টামির ফসল। অতীত টেনে আমি আমার নতুন জীবনকে কলংকিত করতে চাইনা। আমি যা করেছি ঠিকই করেছি, তোমাকে বিয়ে করে আমি কি পেতাম? কয়েকদিন পালিয়ে বেড়াতাম, না খেতে পেয়ে হয়ত মরতাম না হয় আবার নির্লজ্যের মত ভুল স্বীকার করে বাবার বাড়িতে ফিরে আসতাম! সবাই আমাকে দেখে হাসাহসি করতো, এখন বিয়ে করেছি সব পেয়েছি, বাবা, মা, ভাই, বোন, আত্নীয়-স্বজন, স্বামী-সংসার, শশুর বাড়ি সব, সব পেয়েছি যা তোমাকে বিয়ে করলে পেতাম না এটা ভাল নয় কি? আর আমার স্বামী কে দেখছ? অসম্ভব একটা ভালমানুষ, তোমার চেয়ে হাজার গুনে ভাল, স্মার্ট, সুন্দর, ও আমাকে তোমার চেয়ে হাজার গুনে বেশী বুঝে, তোমার চেয়ে হাজার গুনে বেশী ভালবাসে আসলে বিয়ে না করলে আমি এর পার্থক্যটাই বুঝতামনা, সত্যিই গর্ব করার মত স্বামী আমার, তার ফ্যামিলি, তাদের সামাজিক মর্যাদা, অর্থনৈতিক অবস্থা তোমাদের চেয়ে কোটি গুনে বেশী। কোন কিছুর অভাব নেই আমার, তাদেরও কোন সমস্যা নেই, সবাই আমাকে অনেক বেশী ভাল বুঝে, আমি এখন সুখের সর্গে বাস করি। আর তোমার সাথে আমার এত কিছু এত মাখামাখির কথা বলছ? সবই ঠিক আছে। আমার গর্ভে তোমার সন্তান তাও আমি অস্বীকার করছিনা, তবে সেগুলো ছিলো আমার কাছে সময় পার করার জন্য, সন্তান গর্ভ ধারন ছিল নিচক একটা দুর্ঘটনা, ওই সব কুলষিত অতীত টেনে আমি আমার বর্তমান পবিত্র সম্পর্ককে কলংকিত করবোনা, আমি স্বামী-সংসার নিয়ে সুখেই আছি। তোমার এখন আর টাইম নাই, আমার স্বামী আমাকে অনেক বিশ্বাস করে, কখোনো যদি সে তোমার আমার সম্পর্কের কথা জানেও ও বিশ্বাসই করবেনা আমি ওকে এমন ভাবে ওর ব্রেন ওয়াশ করেছি ও শুধু আমাকেই ভালোবাসে। আর ইউ আন্ডার্সট্যান্ড? আই থিংক ইউ বেটার আন্ডার্সট্যান্ড। সবগুলো কথা মেয়েটি একাই বলে গেলো ঔ প্রান্ত থেকে আর কোন সাড়া-শব্দ এলোনা, কিছুক্ষন পর পর শুধু কান্নার আওয়াজ ভেসে আসে। হয়তো দু একটি অশ্রুকনা ছেলেটির চোখ থেকে ঝরে পড়লো ঠোঁটের কার্নিস বেয়ে……………./ কখাগুলো মেয়েটির মনের কথা ছিলো কিনা তা আমারা জানতে পারলামনা, কিংবা মেয়েটি কি সত্যিই তার স্বামীকে নিয়ে সুখী হতে পেরেছিলো? তাও আমাদের অজানা, কি হয়েছিল মেয়েটির ভবিষ্যৎ? ভাগ্যকি সত্যিই তার সাথে প্রতারনা করেছিলো? ছেলেটিই বা কেমন আছে? মেয়েটির মত কঠিন হয়ে কাউকে বিয়ে করে বলে ছিলো কিনা ও আমার গর্ব করার মত বউ! নাকি কোন একসময় দেখা গেলো চুল-দাড়ি লম্বা করে পাগলের বেশে আধা লেংটা হয়ে কুকুর-বিড়ালের সাথে শত বছরের কোন পুরোনো নর্দমার উপর কিংবা পাশে শুয়ে শুয়ে বিড়ি ফুঁকছে??????????????? পড়ুন রেদোয়ান শাহ্জীর লেখা উপন্যাস “চরিত্রহীনা সেই রুপসী”