b4

আজ সঞ্চিতাকে বর পক্ষ দেখতে আসবে, এ কথা সঞ্চিতা সূর্যের নিকট গোপন রেখেছিলো। যথারীতি বরপক্ষ এসে সঞ্চিতাকে পছন্দ করে গেলো। সঞ্চিতারও ছেলে পছন্দ হয়েছে। সূর্যের চেয়েও অনেক সুন্দর, স্মার্ট ও অনেক বেশী শিক্ষিত। সঞ্চিতা মনে মনে মহা খুশি। সূর্যকে না জানিয়েই বিয়ের সবকিছু ঠিকঠাক করে ফেল্লো সঞ্চিতা। এ কাহিনী সূর্য কোন এক ভাবে জানতে পারলো। সূর্য যখন সবকিছু জেনেই ফেল্লো এবার সঞ্চিতা সূর্যের নিকট এস কান্নাকাটি করতে লাগলো। সূর্য আমি সত্যিই তোমাকে অনেক বেশী ভালোবাসি, বিশ্বাস করো এ বিয়েতে আমার কোন মত নেই। ছেলেটা একদম আমার পছন্দ হয়নি একেবারে অখাদ্য! কোথায়ও গিয়ে যে বলবো এ আমার স্বামী এমন ছেলে সে নয়। শুধু মাত্র আমার বাবা-মার দিকে তাকিয়ে আমি এ বিয়েতে রাজি হয়েছি। আমি যদি উতাল পাতাল কিছু করি তাহলে আমার বাবাটা মারা যাবে। তুমি কি চাও আমার জন্য আমার বাবাটা মারা যাক? প্লীজ সূর্য তুমি আমার বাবা মার জীবনটা ভিক্ষে দাও। অল্প কিছুদিন আমার বাবা-মাকে একটু ভালো থাকতে দাও। একটু সময় ভিক্ষে দাও। তুমি জানোনা আমাকে নিয়ে আমার বাবা-মার অনেক স্বপ্ন । ওনাদের মেয়ের জামাই দেখার খুব শখ। জামাই জামাই করে একবার পাগল হযে গেছে। তাই আমি ওনাদের এই স্বপ্নটা পূরন করতে চাই। তোমার দোহাই তুমি কোন প্রকার ঝামেলা করোনা। তুমি কি চাও আমি কষ্ট পাই আমি কষ্টে থাকি ? তুমি আমাকে ভালোবাসোনা? প্লীজ আমাকে একটু দয়া করো। আর হ্যাঁ তুমি অবশ্যই ভালো থাকবা। ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করবা। কষ্ট পাইয়োনা জান আমি দেখনা হাসতেছি খাইতেছি আমিতো কোন প্রকার কষ্ট পাচ্ছিনা, তাহলে তুমি কেন কষ্ট পাবে? শোন যে ছেলেটার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে ও একটা বলদ মনে হয় বউ পাগলা হবে। তাই আমিও ইচ্ছেমত ওকে ঘোরাতে পারবো। তোমার সাথে আমি আগে যেমন ছিলাম সরাজীবন তেমনই থাকবো। তুমি শুধু একটু ভালো থেকো প্লীজ। তুমি যদি কোন অনিয়ম করো তাহলে আমার মাথা খাইবা এই বলে দিলাম। তুমি বুঝনা কেন আমি তো তোমাকে চেড়ে যাচ্ছিনা। আমিতো তোমারই আছি। সারা জীবন তোমারই থাকবো। সারাটা সময় জুড়ে সূর্য সঞ্চিতার কথা গুলো শুনেই গেলো কোন প্রতি উত্তর করলোনা শুধু চোখ থেকে অঝোর ধারায় জল পড়তে লাগলো। এক পর্যায়ে সূর্য সঞ্চিতার পা জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে বলতে লাগলো সঞ্চিতা আমি তোমাকে অনেক বেশী ভালোবাসি তুমি আমাকে চেড়ে যেওনা। কিছুক্ষন নিরভে দাঁড়িয়ে থাকার পর সঞ্চিতা সূর্যের হাত থেকে নিজের পা দুটো ছাড়িয়ে নিযে চলে গেলো। সঞ্চিতা চলে যাওয়ার পর আর ফিরে এলোনা। এর ফলে সূর্যের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়েছিলো কিনা তা আমাদের জানা নেই। যে ছেলেটিকে সঞ্চিতা বউ পাগলা বলেছিলো সে আসলেই বউ পাগলা ছিলো কিনা তাও আমাদের অজানা। সংসার যুদ্ধে সঞ্চিতা কত দিন টিকে ছিলো আমরা তা জানতে পারিনি। শুধু এ টুকু জানি বছর দুয়েকের মাথায় সঞ্চিতা একটি অস্বাভাবিক সন্তান জম্ম দিয়েছিলো। সেটি ছেলে কি মেয়ে কোন ডাক্তারই তা্ বলতে পারেনি। এখানেই শেষ নয় ঐ নবজাতকের ছিলো দুটি মাথা এবং একটি পা ছিলো অস্বাভাবিক হারে ছোট এর পরের কাহিনী কিংবা আগের কাহিনী………………………………। পড়ুন রেদোয়ান শাহ্জীর লেখা উপন্যাস “সঞ্চিতার প্রায়শ্চিত্য”