আমার মন মজাইয়ারে দিল মজাইয়া মুর্শিদ নিজের দেশে যায়!!

 

আমার ভাঙ্গাতরী ছেঁড়া পাল! চলবে আর কত কাল??

 

আমি একদিনওনা দেখিলাম তারে!!

 

কোন মিস্তুরী নাও বানাইছে কেমন দেখা যায়! ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ূরপঙ্খী নায়!!

 

কে যাস রে ভাটির গান গাইয়া! আমার ভাইধনরে কইও নাইয়োর নিতো আইয়া!!

 

তুমি বিনে আকুল পরান থাকতে চায়না ঘরেরে সোনা বন্ধু ভুইলোনা মোরে!!

 

তোরে বানাইয়ারাই বিনোদিনী আমি হবো কালা চাঁন!!

 

বন্দে মায়া লাগাইছে পিরীতি শিখাইছে! দেওয়ানা বানাইছে!!

 

ভাওকুমটা বাতাস যেনো ঘুরিয়া ঘুরিয়া মরে!!

 

রূপ সাগরে ঝলক মারিয়া কি রূপ দেখালি মোরে!!

hqdefaultভাটিয়ালি গানঃ

 ভাটিয়ালি বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চলের জনপ্রিয় গান। বিশেষ করে নদনদীপূর্ণ ময়মনসিংহ অঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর-পূর্ব দিকের অঞ্চলগুলোতেই ভাটিয়ালি গানের মূল সৃষ্টি। বহ্মপুত্রপারের এই অঞ্চলগুলোতে ভাটিয়ালি গানের ব্যাপক চর্চা ও প্রভাব লক্ষ করা যায়। ভাটিয়ালি গানের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এ গানগুলো রচিত হয় মূলত মাঝি, নৌকা, দাঁড়, গুন ইত্যাদি বিষয়ে। সঙ্গে থাকে গ্রামীণ জীবন, গ্রামীণ নারী, প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা-বিরহ, আকুলতা ইত্যাদির সম্মিলন। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীর সঙ্গে এ দেশের মানুষের অত্যন্ত নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। নদীর মাঝি বা নদীপারের জনজীবনে ভাটিয়ালি গানের প্রচলন অত্যধিক। নদীর স্রোতের টানে ভাটিতে যাওয়ার সুর এই গানে বিদ্যমান। আধুনিক ভাটিয়ালি গান অনেকটা বস্তুমুখী চেতনায় সমৃদ্ধ। জীবনের সব সমস্যার ঊর্ধ্বে যে খাওয়া-পরার সমস্যা, তা-ই প্রাধান্য পেয়েছে এই গানে। নদীর মাঝি উজান কোনো বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে ভাটির দেশে যাওয়ার সময় চিন্তা করে তার ক্রীত পণ্য নিয়ে ভাটির বন্দরে বিক্রি করে সে কত লাভ করবে। এসব বিষয় উঠে এসেছে ভাটিয়ালি গানে।

নদীমাতৃক দেশ এই বাংলাদেশ। নদীর সাথে এই দেশের মানুষের যোগসূত্র অত্যন্ত নিবিড়। তাই, ভাটিয়ালী গানও এ দেশের প্রাণের গভীর চেতনা থেকে উৎসারিত একটি বিশিষ্ট সম্পদ। নদীর মাঝি বা নদী পাড়ের জনজীবনে এই গানের প্রচলন অত্যধিক। ভাটিয়ালী অর্থাৎ নদীর স্রোতের টানে ভাটিয়ে যাওয়ার সুর এই গানে বিদ্যমান। নদীর স্রোতের সাথে আছে জীবনের চলার এক অপূর্ব সাদৃশ্য – স্রোত সমুদ্রের দিকে চলেছে, উজানগামী সে কখনই নয়। জীবনও পরিণতির পথে এমনি প্রবহমান যে, যে মুহূর্ত সে অতিক্রম করে সেটি আর ফিরে আসে না। বাংলার ভাটিয়ালী গানের কবি তাই বলেন,

তরী ভাট্যায় পথ আর উজান না
মন মাঝি তোর বৈঠা নে’রে
আমি আর বাইতে পারলাম না।

এ গান কবে, কে রচনা করেছিলেন তা আর হাজার মাথা কুটেও জানবার উপায় নেই। কিন্তু এ গানে বাংলার মানুষের, নদীমাতৃক দেশের মানুষের প্রাণের বাণীই ধরা পড়েছে। বাংলাদেশের লোককবির কণ্ঠেই আমরা তাই শুনিঃ

কূলে কূলে ঘুরিয়া বেড়াই আমি
পাইনা ঘাটের ঠিকানা
ডুব দিলাম না।

কিন্তু আধুনিক ভাটিয়ালী লোকসঙ্গীতে ঠিক এই মরমিয়া চেতনা এমনভাবে ধরা পড়তে দেখা যায় না। আধুনিক ভাটিয়ালী গান অনেকটা বস্তুমূখী চেতনায় সমৃদ্ধ – জীবনের সব সমস্যার ঊর্ধ্বে যে খাওয়া-পরার সমস্যা তাই প্রাধান্য লাভ করেছে। এখন নদীর মাঝি উজান কোন বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে ভাটির দেশে যাবার সময় চিন্তা করে তার ক্রীত পণ্য নিয়ে ভাটির বন্দরে বিক্রি করে সে কত লাভ করবে। এমনকি নদীর মাঝি অথবা নৌকায় নৌকায় ব্যবসারত সওদাগরের মনেও আজ এমনি লাভ-লোকসানের হিসাব প্রাধান্য লাভ করেছে। এই হিসাব ভাটিয়ালী গানেও প্রতিবিম্বিত ও নতুন সুরে ঝংকৃত।