b1প্রায় এক মাস হাসপাতালে চিকিৎসার পর সূর্য আজ কিছুটা ভালো। আজ আবার সঞ্চিতার কথা মনে পড়লো কারন আজ ১২ বছর হলো সঞ্চিতার বিয়ে হয়েছে। আজ থেকে ১২ বছর আগে ঠিক এই দিনে সূর্যকে না জানিয়ে অতি লোভে, অতি উৎসাহিত হয়ে, অতি সুখের আশায় অন্যজনকে বিয়ে করেছিলো সঞ্চিতা্ । আজ তার বিবাহ বার্ষিকী। সঞ্চিতা আজ আবার বউ সাজবে, কেক কাটবে, আজ আবার নতুন করে সঞ্চিতার ফুল সজ্জা হবে। সঞ্চিতা আজ আবার ফিরে যাবে তার প্রথম দিনের চেনা পরিচয়ে। কথা গুলো যখন সূর্য হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে ভাবছে ঠিক তখনই পাশের কেবিন থেকে সূর্যের কানে ভেসে এলো একটি মেয়ে চিৎকার করে বলছে আমাকে ছেড়ে দাও আমি পাগল না আমাকে ছেড়ে দাও, আমাকে সূর্যের কাছে যেতে দাও। কথাগুলো শুনে সূর্য হঠাৎ থমকে গেলো। আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালো কৌতুহলী হয়ে এক পা দু পা করে ভিতরে প্রবেশ করলো। ভিতরে ঢুকেই দেখে মধ্যবয়সী এক নারীকে। হাতে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে বেডের সাথে বেঁধে রেখেছে। চুলগুলো ছেঁটে ছোট করে ছেলেদের চুলের মত করে রেখেছে। শরীরে ময়লা জামাকাপড় আর ভীষন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মনে হয় কয়েক যুগ পানি লাগেনি ঐ শরীরে। হাত পা গুলোও কেমন সাস্থ্যহীন দেখাচ্ছে। আরো কাছে যেতেই একি! এ যে সঞ্চিতা! এ কি করে সম্ভব! সূর্যকে দেখে সঞ্চিতা এবার উঠার চেষ্টা করলো কিন্ত পারলোনা কারন তার হাত ও পা বাঁধা। তাই শুয়ে শুয়েই বলতে লাগলো সূর্য তুমি এসেছ? জানো ওরা সবাই আমাকে পাগল বলে। আমি নাকি পাগল। এবার সূর্য আস্তে করে সঞ্চিতার পাশে বসলো্ সঞ্চিতা একি হয়েছে তোমার? তুমি এখানে কেন? সে অনেক কথা সূর্য পরিস্তিতি আমাকে বাধ্য করেছে। অন্যের সুখ চাইতে গিয়ে আমি সব হারিয়েছি। তোমাকে কষ্ট দিয়েছি। তার ফল আজ ১২ বছর যাবত ভোগ করছি। জানো কেউ আমাকে বিশ্বাস করেনা যে বাবা/মার জন্য এত কিছু করলাম সেই বাবা/মাও আমাকে আজ পাগল বলে সব দোষ আামর উপর দিয়ে চলে গেছে। সূর্য আমি তোমাকে কাঁদিয়ে বিয়ে করেছি ঠিকই কিন্ত বিশ্বাস কর আমি নিজেকে কখোনো মানাতে পারিনি, ঐ ছেলের সাথে এক দিনের জন্যও আমি এডজাষ্ট হতে পারিনি। তাই ঐ ছেলে আমাকে ছেড়ে আবার বিয়ে করেছে আর আমাকে সবার সামনে পাগল সাজিয়ে বন্দী করে রেখেছে ১২ টি বছর, যেন আমি অন্য কোথাও যেতে না পারি। সূর্য আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও, আমাকে মুক্ত করো, আমাকে তোমার চেয়ে বেশী আর কেউ ভালো বাসবেনা। সূর্য আমাকে বাঁচাও, অতীত ভুলে তুমি আবার আমার আগের সূর্য হয়ে তোমার আলোয় আমাকে আলোকিত করো। কথাগুলো বলতে বলতে সঞ্চিতা জ্ঞান হারিয়ে ফেল্লো। তার সেই জ্ঞান আর ফিরে এসেছিলো কিনা তা আমাদের জানা নেই। কোন পরিস্তিতিতে সঞ্চিতার এ অবস্থা হয়েছে তাও আমাদের অজানা। সঞ্চিতার শেষ অনুরোধ টুকু সূর্য রাখতে পেরেছিলো কিনা তাও আমরা জানতে পারিনি।