seiসূর্য!
আমার এই চিঠিটি যখন তুমি পড়বে তখন আমি এই পৃথিবী ছেড়ে অনেক দূরে, আজ আমার বিয়ে হওয়ার কথা রয়েছে, ইতোমধ্যে বিয়ের সব কাজ-কর্ম শেষের দিকে। আমি তোমার মনের অবস্থা বুঝি। তুমি হয়তো বসে বসে কাঁদছ আর ভাবছ আমি কত কঠিন! কত খারাপ! তাইনা? আমি জানি আমার সম্পর্কে খারাপ কোনো ধারনা তোমার আগে না থাকলেও এখন ঠিকই আছে। কিন্ত সূর্য তুমি কি জানো তোমার এই পাগলীটাযে শুধু তোমাকেই ভালোবাসে! তোমাকে না পেলে অন্য কারো হবেনা বলে পন করেছে! পারলামনা সূর্য পারলামনা, তোমাকে ভুলে অন্য কাউকে বিয়ে করে এই কলংকিত জীবন নিয়ে বেঁচে থাকতে পারলামনা! তুমিতো জানো আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কোথাও সুখী হতে পারবোনা, কারন আমার দেহ, মন, প্রান যে আমি তোমার নিকট বন্ধক রেখেছি। অন্য ৮/১০ টা মেয়ের মত তোমাকে ভুলে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সম্ভব নয় অন্য কাউকে বিয়ে করে ভরা মজলিসে সবার সামনে দাঁত কেলিয়ে বলা যে, জানো… আমি সত্যিই আমার মনের মতো জীবন সঙ্গী খুঁজে পেয়েছি। সূর্য তোমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করলে আমি হয়তো অনেক বিত্ত-ভৈববে ও আভিজাত্যে ডুবে থাকবো ঠিকই কিন্ত মানষিক ভাবে সুস্থ থাকতে পারবোনা। তোমার ছোঁয়া, তোমার গায়ের গন্ধ আমার প্রতিটি শিরায়-উপশিরায় মিশে আছে। আমি আমার এই দেহ, মন, প্রান দ্বিতীয় কারো সাথে মিশিয়ে নিজের চরিত্রকে কলংকিত করতে পারবোনা। আমি শুধু তোমার সন্তানের মা হতে চেয়েছিলাম অন্য কারো নয়, একবার চিন্তা করো আমি যদি অন্য কারো সন্তানের মা হই তাহলে আমার সেই সন্তান কখনোকি আমাকে নিয়ে গর্ব করতে পারবে? বলতে পারবে আমার মা একজন রত্না গর্ভা? পারবেনা। কোনো সন্তান বড় হয়ে যদি সে তার বাবা/মায়ের চরিত্র নিয়ে কথা বলে এর চেয়ে কলংকিত কোনো জীবন আর আছে কিনা আমার জানা নাই। আমার স্বামী, শশুর বাড়ির লোকজন আমাকে নিয়ে গর্ব করবে ঠিকই কিন্ত আমিতো জানি আমি কি পাপ করেছি! তাদের অফুরন্ত সুখের মাঝে আমি যে জ্বলে-পুড়ে ছাঁই হয়ে যাবো। তাই আমি তাদেরও ঠকাতে চাইনা। আমি তোমার সাথে যা করেছি তা সমাজের চোখে অবৈধ হলেও আমি তা এখোনো বৈধ বলেই জানি যতক্ষন আমি তোমার আছি। কিন্তু যদি আমি তোমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করি তাহলেতো তোমার আমার সম্পর্কটা অবৈধ হয়ে যাবে। আমি হবো কলংকিত, অন্য কারো ঘরে গিয়ে আমি আমার এই কলংকিত জীবন নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবোনা। আমার জীবন থাকতে আমি তা হতে দিতে পারিনা। আজ বৈধ-অবৈধের মাঝখানে আমার স্বতীত্ব লড়াইয়ের যুদ্ধে আমি একা, তাই জয়-পরাজয় যাই হোক সমাধানটা আমাকেই করতে হবে। কারন বাঙ্গালী নারীরা তাদের সবকিছু একজনকেই দেয় দ্বিতীয় কাউকে নয়, এটাই বাঙ্গালী নারীদের ধর্ম। সূর্য তুমিতো বেকার, তাছাড়া বাবা তোমার আমার সম্পর্ক কখোনোই মেনে নিবেনা। আমি যদি এখন বিয়ে করি তাহলে সবাই খুশি হবে, কিন্ত সবার খুশির জন্যতো আমি আমার স্বতীত্ব নষ্ট করতে পারবোনা। কোটি কোটি টাকা দিয়ে কি হবে? যদি একটা নারীর সতিত্বই না থাকে? তোমাকে না পেয়ে আমি হয়তো হেরে গেছি কিন্ত গর্ব করে বলতেতো পারবো আমি স্বতী নারী! ভালো-খারাপ যা করেছি একজনের সাথেই করেছি দ্বিতীয় কারো সাথে নয়, কারন আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি অন্য কাউকে আমি আমার এ ভাগ দিতে পারবোনা। তাইতো আমার স্বতীত্ব রক্ষায় চলে যাচ্ছি না ফেরার দেশে। সিদ্ধান্তটা আমার একক, শুধুমাত্র আমার নিজেকে রক্ষা করার এর চেয়ে ভালো কোনো উপায় খুঁজে পেলামনা। তোমাকেও কোন দোষ দেবোনা কারন আমি জানি তুমি আমাকে তোমার প্রানের চেয়েও বেশী ভালোবাস। আামর মত পরিনতি তোমারও হোক তা আমি চাই না, কারন তুমিতো পরিস্থিতির স্বীকার। সূর্য তোমাকে ভালোবেসে আমি তোমার কাছে বড় কিছুই চাই নি তবে আজ আমার বিদায় বেলায় চাইবো দিবা? সূর্য জীবনে যখন প্রতিষ্ঠিত হবে তখন অবশ্যই বিয়ে করবে, তোমার যদি কোনো সন্তান হয় তাহলে তাদেরকে আমার চরিত্রে মানুষ করবে। পৃথিবীতে কেউ না জানুক তুমি আর সৃষ্টিকর্তাতো জানে আমি কেমন! আমার আদর্শে আমার চরিত্রে তোমার সন্তান বড় হবে, তাদের মাঝে আমি তোমার হয়ে বেচেঁ থাকবো আজীবন। কি রাখবেনা আমার এ অনুরোধটুকু? আমার হাতে সময় খুব কম তাইতো সব শেষ করে যেতে পারলামনা। সূর্য পৃথিবীতে তুমিই একমাত্র পুরুষ যে আমাকে স্পর্শ করেছ। আমাকে প্রানের চেয়েও বেশী ভালোবাসছো। আমি সৃষ্টিকর্তাকে স্বাক্ষী রেখে বলতে পারি তোমার মনেও আমি ছাড়া আর কেউ নেই। তাইতো যখন তোমার বউ হতে পারলামনা তখন অন্য কারো হই কি করে? বাহিরে আমার বিয়ের আয়োজন চলছে, লোকজনও প্রায় সব এসে গেছে, একটু পরে হয়তো বরযাত্রী আসবে। আমার বান্ধবীরা এসেছে আমাকে সাজিয়ে দেওয়ার জন্য। আমি বধূ সাজতে ছেয়েছিলাম ঠিকই তবে সেটা অন্য কারো জন্য নয় শুধু তোমার জন্য, আর তোমার জন্য যখন সাজতে পারলামনা তখন এই বধূর সাজ নিয়েই বিদায় নিলাম পারলে আমায় ক্ষমা করে দিও।…………………….///. চিঠিটা পড়ে সূর্যর মনের অবস্থা কি হয়েছিলো তা আমাদের জানা নেই। মেয়েটিতো তার স্বতীত্ব রক্ষায় জীবন দিলো, তাহলে সূর্য কি করেছিলো? সে কি নতুন কাউকে খুঁজে পেয়েছিলো? অন্য কাউকে নিয়ে স্বপ্নে বিভোর ছিলো? সব ভুলে অন্য কাউকে বিয়ে করে নির্লজ্জের মতো দাঁত কেলিয়ে বলে ছিলো কিনা যে আমি সত্যিই আমার মনের মতো জীবন সঙ্গী খুঁজে পেয়েছি। নাকি মেয়েটির মত নিজের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে হেরে গিয়ে মেয়েটির দেখানো পথেই হেঁটেছিলো?
পড়ুন রেদোয়ান শাহ্জীর লেখা উপন্যাস “এই আমি শুধু তোমার”